কৃষিজাতীয়

পদ্মায় বিকট গুলির শব্দ ও দুই স্পিডবোটে আগুন: আধিপত্য বিস্তার নাকি অন্য কিছু?

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ফের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর, ২০২৬) হঠাৎ করেই বিকট গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো নদী তীরবর্তী এলাকা। এর পরপরই পদ্মার বুকে থাকা দুটি স্পিডবোটে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরের দিকে বাহাদুরপুর চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় আকস্মিকভাবে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা বা লক্ষ্যভেদকারী গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ থামার কিছুক্ষণ পরেই পদ্মার বুকে নোঙর করা কিংবা চলমান অবস্থায় থাকা দুটি স্পিডবোটে একসঙ্গে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বোট দুটিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশের আকাশ। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই স্পিডবোট দুটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বোট দুটিতে কোনো লোক বা মাঝি-মাল্লা ছিল কি না কিংবা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহাদুরপুর সংলগ্ন পদ্মা নদীর এই চরাঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নদীর আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ নৌযান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকার একাধিক সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ ও কোন্দল চলে আসছে। এর আগে গত জুলাই মাসের শেষের দিকেও ঠিক একই বাহাদুরপুর এলাকার নিকটবর্তী পদ্মায় নতুন স্পিডবোটের ট্রায়াল দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আজকের এই অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির ঘটনা সেই পুরোনো আধিপত্য বিস্তার বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ওসি মোঃ শামীম শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও নৌ-পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো আটকের বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *