সাভারে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা, মূল হোতা গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে কাটাকাটির জেরে ঢাকার সাভারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আলতাফ হোসেনকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান হামলাকারী প্রাইভেটকারের মালিক ও চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে মূল হোতা জহিরুলকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিবাগ জোনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসবি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকার একটি গেঞ্জি ফ্যাক্টরির সামনে রাস্তা আটকে প্রাইভেটকার রাখাকে কেন্দ্র করে চালক জহিরুলের সঙ্গে আলতাফ হোসেনের কথাকাটাকাটি হয়।
এরই একপর্যায়ে জহিরুলের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১৫ জন সংগঠিত হয়ে এসআই আলতাফ হোসেন এবং তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামের (২৬) ওপর অতর্কিত ও নির্মম হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও হামলায় বাবা-ছেলে দুজনই মারাত্মক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত আঘাতের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। আহত ছেলে আরিফুল ইসলাম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
