জাতীয়প্রযুক্তিসারাদেশ

কুষ্টিয়া সীমান্তে শারদীয় দুর্গোৎসবে বিজিবির কড়া নজরদারি, মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা মিষ্টি বিতরণ


১৫ অক্টোবর ২০২৬
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তায় উদযাপনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ।
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ২ নং মথুরাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মথুরাপুর দাসপাড়া শ্রী শ্রী জগৎ জননী দুর্গা মন্দির’ পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি।
পরিদর্শনকালে বিজিবি অধিনায়ক পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় করেন। সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিজিবি অধিনায়ক মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয়দের মাঝে শারদীয় শুভেচ্ছা হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করেন।
এ সময় মথুরাপুর দাসপাড়া দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিজয় কুমার দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত ঘেঁষা পূজা মণ্ডপগুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দৌলতপুরের আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে ৮ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পূজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিজিবির বিশেষ টহল দল দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন এবং বিসর্জন পরবর্তী শোভাযাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর নজরদারি, স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট এবং মোবাইল টহল অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শন শেষে বিজিবি অধিনায়ক জানান, বিজিবি কেবল সীমান্ত পাহারাতেই সীমাবদ্ধ নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সকল ধর্মের মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায়ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দর্শনার্থী ও ভক্তরা যাতে নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করছে বিজিবি।
বিজিবির এই ত্বরিত পদক্ষেপ, সক্রিয় উপস্থিতি এবং আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *