বাংলাদেশ

পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উপকৃত হবেন ২৪ জেলার মানুষ: কুষ্টিয়ায় পানিসম্পদমন্ত্রী

, কুষ্টিয়া সদর প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদীসংকট কাটাতে এবং স্থায়ী পরিবেশগত সুরক্ষায় এগিয়ে আসছে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্তত ২৪টি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পভুক্ত গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প পরিচালনা ও বাস্তবায়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একেনেক (ECNEC) বৈঠকে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সম্পূর্ণ প্রকল্প শেষ হতে আনুমানিক সাত বছর সময় লাগবে।

অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এই অঞ্চলে বর্ষার সময় নদীভাঙন ও বন্যার কারণে মানুষের ব্যাপক ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে তীব্র পানি সংকেটের কারণে লবণাক্ততা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়, যা উপকূলীয় এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখ ঠেলে দেয়। সবদিক বিবেচনা করেই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।”

এর আগে বিকেল ৫টায় পানিসম্পদমন্ত্রী পদ্মা নদী থেকে গড়াই নদের উৎপত্তিস্থলে প্রকল্প এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর কাছে প্রকল্পের খুঁটিনাটি ও কারিগরি নকশা উপস্থাপন করেন।

কর্মকর্তারা জানান, গড়াই নদের উৎসমুখে অফটেক চ্যানেলে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। একই সঙ্গে এই বিশেষ চ্যানেলের সাহায্যে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই নদে পর্যাপ্ত ও নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে উৎপন্ন হিসনা নদীকেও এই মেগা প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *