কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু: হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর, এলাকা উত্তপ্ত
কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালিয়েছে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনরা। আজ শুক্রবার সকালে মিরপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বিরের তিন বছরের ছেলে রাফি অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের স্বজন ও তাদের সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে অতর্কিত হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় জরুরী বিভাগসহ বিভিন্ন কক্ষের জরুরি আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।
পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার দ্রুত মিরপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে মিরপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আব্দুল আজিজ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে যান মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান এবং মিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী। বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবা দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম পুলিশের উপস্থিতির পর বর্তমানে হাসপাতাল এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। তবে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
