১১ বছরের একমাত্র সন্তানকে রেখেই
টিকটকে পরিচয় থেকে ইউপি সদস্যের হাত ধরে ঘর ছাড়লেন স্ত্রী, স্বামী করলেন আদালতে মামলা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সুবাদে সৃষ্ট পরকীয়া সম্পর্কের টানে ১১ বছরের একমাত্র সন্তানকে বাড়িতে রেখেই ঘর ছেড়েছেন এক গৃহবধূ। সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন সরকারের স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬) এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত গৃহবধূর স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে এবং আইনি প্রতিকার চেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুকে। তবে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য দাবি করেছেন, তারা আইনগত ও বৈধভাবে একে অপরকে বিয়ে করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মচারী ও মৎস্যঘের ব্যবসায়ী অর্জুন সরকারের সঙ্গে দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে লাবনী সরকারের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংসার জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ১১ বছরের একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান, যার নাম অর্ক সরকার।
স্বামী অর্জুন সরকারের অভিযোগ, কিছুদিন আগে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টিকটকের মারফত কালিগঞ্জ উপজেলার ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী লাবনীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ম্যাসেজ ও মুঠোফোনে গভীর যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
যেভাবে ঘর ছাড়েন লাবনী
স্বামী অর্জুন সরকার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লাবনী তাদের ১১ বছরের ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে দেবহাটায় নিজের বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এর দু’দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর কৌশলে সন্তান অর্ককে একাই স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন লাবনী। যাওয়ার সময় অবুঝ শিশুকে তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা, তুমি বাড়ি যাও, আমি কয়েক দিন পর আসছি’।
অর্জুনের আরও অভিযোগ, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং স্বর্ণের হার, দুই রুলি ও কানের দুলসহ কয়েক ভরি মূল্যবান স্বর্ণালংকার সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় স্ত্রীর পরিবার বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মায়ের জন্য সন্তানের বুকফাটা আর্তনাদ
মায়ের এমন আকস্মিক চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ১১ বছরের শিশু অর্ক সরকার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটি বলে, ‘মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে যাওয়ার পর আমাকে একাই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার মাকে খুব ভালোবাসি, মাকে আমার কাছে ফেরত চাই’। ছোট এই শিশুর কান্নায় আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও মন গলেনি মায়ের।
আদালতের দ্বারস্থ স্বামী
অর্জুন সরকার জানান, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার তার সঙ্গে ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লাবনী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি স্বামী ও সংসার ছেড়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদকেই বিয়ে করতে চান। উপায় না পেয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর অর্জুন সরকার বাদী হয়ে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুকে প্রধান অভিযুক্ত করে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দাখিল করেন।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবু গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমাদের মধ্যে যা হয়েছে, তা কোনো লুকোচুরি নয়। আমরা আইনগত ও বৈধভাবে একে অপরকে বিয়ে করেছি’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও এর জেরে একটি সাজানো সংসার ভেঙে যাওয়ার এই ঘটনায় ভোমরা ও কালিগঞ্জ এলাকজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অবুঝ শিশুর কথা বিবেচনা করে ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও শিশুটির মায়ের সঠিক সুরাহা দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
