পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত দৌলতপুর, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ: বন্ধ ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে সীমান্তবর্তী দুই ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার থেকে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে পানির তীব্রতা বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু ঘরবাড়ি, কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট এবং নিচু এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর আগে চরাঞ্চলের প্রায় ৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল, যা এখন আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক ৯৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও পানি এখনো বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে নদীটির পানি গত তিন দিনে মোট ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃদ্ধির এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মোট ১৮টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, “উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০টি পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রশাসন প্লাবিত এলাকার মানুষের পাশে রয়েছে।”
বর্তমানে নদীতীরবর্তী মানুষগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্গম চরাঞ্চলের প্লাবিত পরিবারগুলো দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, খাবার পানি ও গোখাদ্যের সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
