মহাসড়কে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি ডাকাত দল: কুষ্টিয়ায় ২ গরুসহ তিন চোর আটক
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পুলিশি তল্লাশিতে বেরিয়ে এলো আন্তঃজেলা চোর চক্রের ভয়ানক এক কান্ড। গভীর রাতে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার সময় একটি ট্রাকে অভিযান চালিয়ে দুইটি গরু এবং তালা কাটার বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ তিন সন্দেহভাজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্যস্ততম সৈয়দ মাছ-উদ রুমি সেতু এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনের মতোই সৈয়দ মাছ-উদ রুমি সেতু এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করছিল কুমারখালী থানার একটি চৌকস টিম। গভীর রাতে গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় একটি ট্রাককে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। ট্রাকটি থামার সাথে সাথেই ভেতরে থাকা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তিন সদস্য অন্ধকার ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে ট্রাকে থাকা অপর তিনজনকে ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে দুটি চুরিকৃত গরু এবং শাটারে বা দরজায় ব্যবহৃত মজবুত তালা কাটার আধুনিক বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আটককৃত ব্যক্তিরা এবং তাদের পালিয়ে যাওয়া সঙ্গীরা একটি সুসংগঠিত ডাকাত ও গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাতে সুবিধাজনক স্থানে তালা কেটে গরু চুরি ও ডাকাতি চালিয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জব্দ করা গরু দুটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান পেতে ইতোমধ্যেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গবাদিপশুর ছবি ও বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুমারখালী থানা পুলিশের অফিশিয়াল পেজে একটি সহায়তা বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শনপূর্বক প্রকৃত মালিককে গরু দুটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে দুটি গরু ও তালা কাটার সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চোর চক্রটির সাথে আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।”
