সারের ব্যবসার আড়ালে বাড়ি ঘিরে সারের ভেজাল কারখানা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সারের সাব-ডিলারশিপের আড়ালে নিজ বসতবাড়িতেই গড়ে তোলা হয়েছিল বিশাল এক নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণের আস্তানা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ভেজাল সার ও বিষাক্ত কীটনাশক জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের লাউতাড়া গ্রামে অসাধু ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমানের বাসভবনে এই আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হয়। সাজাপ্রাপ্ত মশিয়ার রহমান ওই গ্রামের ইমান আলী মোড়লের ছেলে। তিনি বিসিআইসি সারের অনুমোদিত সাব-ডিলারশিপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের ঠকিয়ে অবৈধ, ভেজাল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ কেনাবেচায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে সারের সাব-ডিলার মশিয়ার রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে শোবার ঘরের মেঝে ও খাটের ওপর ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় ভেজাল সারের বস্তা, বিভিন্ন সুপরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সংবলিত নকল প্যাকেটের মোড়ক, বিষাক্ত তরল রাসায়নিকের ড্রাম এবং ওষুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। র্যাবের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মশিয়ার রহমান অবৈধ উপায়ে ঘরে বসেই এসব ভেজাল পণ্য তৈরি, মজুত ও বাজারজাতকরণের বিষয়টি স্বীকার করেন।
অভিযানের পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। সারের ব্যবসা ও সাব-ডিলারশিপের সুযোগ নিয়ে নকল ও ক্ষতিকর কৃষি উপকরণ সরবরাহের অপরাধে ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইনে মশিয়ার রহমানকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। একই সঙ্গে আদালত উপস্থিত জনসমক্ষে ও প্রশাসনের নজরদারিতে জব্দ করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের সব ধরনের নকল সার, রাসায়নিক ও ভেজাল কীটনাশক আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করার আইনি নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, “নকল ও মানহীন সার-কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং সাধারণ কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিসিআইসি সারের ডিলার বা সাব-ডিলার হয়ে সারের মতো স্পর্শকাতর কৃষি উপকরণের সঙ্গে প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, কৃষকদের অসাধু চক্রের হাত থেকে রক্ষা করায় র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের তাৎক্ষণিক শাস্তির সিদ্ধান্তে স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহল ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
