ইবিতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ৩ হল: তীব্র পানি সংকট ও গরমে শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩টি আবাসিক হলে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরম, খাবার পানির সংকট, মোবালাই-ল্যাপটপে চার্জ না থাকা এবং ওয়াই-ফাই সেবা বন্ধ থাকায় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিত্যদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় শনিবার সকাল ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎহীন হলগুলো হলো—নারী শিক্ষার্থীদের খালেদা জিয়া হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং ছাত্রদের শহীদ শাহ আজিজুর রহমান হল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। রাতে জেনারেটরের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভোল্টেজ কম থাকা এবং সব ব্লকে সংযোগ না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীরা কোনো সুফল পাননি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো সম্ভব হয়নি, ফলে ওজু, গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট। এমনকি রাতের ডাইনিংয়েও খাবারের ঘাটতি দেখা দেয়।
হলগুলোর আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌস বর্ষা ও মোছা. হিতুয়ারা খাতুন জানান, পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। হল প্রভোস্টকে ফোন করা হলে তিনি কোনো সমাধান না দিয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেন।
শহীদ শাহ আজিজুর রহমান হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তানজিল হোসাইন ও পংকজ রায় জানান, নোটিশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার কাজ করার কথা থাকলেও তা শুক্রবার করা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার্থী ও অনলাইনে ক্লাস-কোচিং করা শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানানো হয়, ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর সাবস্টেশনের (জুলাই-৩৬ হলের সামনে) বৈদ্যুতিক এইচটি ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংস্কার কাজ করতে গিয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, “৪ নং সাবস্টেশনের সংস্কার কাজ করতে গিয়ে লাইনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাতে জেনারেটর দিয়ে সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ফল্ট করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের সাথে নিয়ে আমরা প্রতিটি লাইন পরীক্ষা করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে।”
